শেখ বাশার,১১ জানুয়ারি ২০২৩ (বিবিনিউজ): মানিকগঞ্জের আটিগ্রামে প্রতিবছরই পৌষ সংক্রান্ত উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী মা বুড়ির মেলা। এ বছরও মাস ব্যাপী মেলা শুরু হবে ১৪ জানুয়ারী। ইতো মধ্যে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে আয়োজিত কমিটি। এই উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার অদুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটি গ্রামে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মা বুড়ির (বনদূর্গা) মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই মেলা উপলক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ,বলাকা সংসদ ও মেলা কমিটি যৌথ ভাবে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করে থাকেন। এ কর্মসূচীর মধ্যে উদ্বোধনী সভা ছাড়াও থাকছে ১৫ দিন ব্যাপী পৌষ মেলা, আলোচনা সভা ,সার্কাস ,পুতুল নাচ,জারী,সারী,বাউল গান সহ বহু বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান। পন্ডিতদের মতে হিন্দুদের এই ধর্মীয় উৎসবের মূলে রয়েছে হিন্দু ,বৌদ্ধ,ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাব্ । ভারতসহ দেশ-বিদেশের দুর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য নর-নারী এই পৌষ মেলার উৎসবে মিলিত হয়। পৃথিবীর সকল মানুষই আনন্দময় জীবন যাপনে উৎসাহী। হিন্দুদের রয়েছে পূজা,পার্বন,রথ যাত্রা,সংগীত, মেলা ইত্যাদি। এমনি একটি আনন্দ উৎসব হলো শ্রী শ্রী মা বুড়ির পৌষ মেলা।

আটিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর-এ-আলম সরকার(নূরু),সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সিনিয়র নেতা এবিএম হেলাল উদ্দিন ,সাবেক মেম্বার বরুন কুমার সরকার,রন্জিৎ ঘোষ,রমেশ চন্দ্র মন্ডল ও সুস্থির চন্দ্র মন্ডল(নাতু)র সাথে আলোচনা করে জানাগেছে, দীর্ঘ প্রায় ৩ শত বছর পূর্বে থেকেই ্ঐতিহ্যবাহী মা’বুড়ির মেলা শুরু হয়েছে । বিগত ১৮৯৭ -৯৮ সনে অর্থাৎ প্রায় ১ শতাব্দী পূর্বে মানিকগঞ্জ জেলার বালিয়াটির জমিদার বাবুরা প্রায় এক একর জমি বনদুর্গা পুজা উপলক্ষ্যে দান করেন। দীর্ঘ দিন যাবৎ এই পূজা করছেন স্থানীয় নর্মশুদ্ধ ও ভূই মালিরা। এই মা বুড়ির মেলায় ৩ দিন মা বুড়ির পূজা অর্থাৎ বনদুর্গা পুজায় নর্মশুদ্ধরা শতকরা ৬০ ভাগ এবং ভূই মালিরা শতকরা ৪০ ভাগ আয়-ব্যায় বহন করে আসছে। এই মেলা উপলক্ষ্যে আটিগ্রাম কাটিগ্রাম,কৃষ্ণপুর,ভগবানপুর,ফারিরচর,নারীকুলী,রাজনগর,বাসাই,পূর্ববাসাই ,কুষাভাংগা, ভগমানপুর,কেষ্টিসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামে দুর দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনরা এ মেলার সময় এসে থাকেন। এই মেলায় সকল ধর্মের হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলা স্থলে পরিণত হয়।

তবে বিগত ২ বছর দেশে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের কারনে সাধারণ ভাবে পূজা হলেও মেলার সকল কর্মসূচি ছিল বন্ধ। চলতি বছর পূর্বের ন্যায় হওয়া উচিৎ। আমরা যারা আটি গ্রাম আকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশে পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষালাভ করে বিভিন্ন কলেজ বিশ^বিদ্যালয় অধ্যায়ন শেষে চাকুরী,ব্যবসা ও বিদেশ থাকিনা কেন পুতুল নাচ দেখাসহ এ মেলার রয়েছে অনেক স্মৃতি ।
আরো জানাগেছে,এ পৌষ মেলায় হিন্দুদের একটি উৎসব হলেও ধর্মীয় সীমা বদ্ধতা ছাড়িয়ে তা আজ সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আটি গ্রামের এই পৌষ মেলার বৈশিষ্ট হচ্ছে কুটির শিল্পের সমাহার। এখানকার কাঠ নির্মিত দ্রব্যাদি,তামা কাশা,শিল্পের সুনাম বিশ্ব জুড়ে। বড় বড় মাছও এখানে কম বিক্রি হয়নি তবে বর্তমানে অনেকটা ভাটা পড়েছে। মেলায় লোক আসে দুর দূরান্ত থেকে। আসে নর-নারী শিশু যুবক বৃদ্ধ সকলেই। কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ই নয় আসে সব সম্প্রদায়ের মানুষ। ছোট বড় ভেদাভেদ ভুলে এ মেলা এক মানব মিলন মেলায় পরিণত হয়। মেলায় মিলে হাজারো জিনিষ পত্র । কাঁসা ও তামা শিল্প আর শিল্পের বিরাট সমাহার। মাছ ও মিষ্টির দোকানে ক্রেতাদের ভীর জমে প্রচন্ড হরেক রকমের খাদ্য সম্ভার দেখা যায় এখানে। চিনির সাজ,বিন্নি মিষ্টান্ন প্রভৃতি। এখানে বসে বিপনী বিতান এছাড়াও এখানে ওঠে কাঠের সমস্থ জিনিস পত্র, খেলনা ছুরী তৈজষপত্র শামুক ঝিনুকের গয়না,অস্ত্রের টাটা শব্দ,অসংখ্য মানুষের কলরব সব মিলিয়ে এক তুলকালামকান্ড ঘটে এখান্ ে। সভ্যতা সম্প্রীতির এক মহিমায় দীপ্তিতে উদ্ভাসিত এই মেলা আটি গ্রাম বাসীদের গৌরবানিত করে আসছে।
প্রতিবছরই সুষ্টভাবে মেলা পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় আটিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানকে-সভাপতি ও স্থানীয় বলাকা সংসদের সভাপতিকে সাধারন সম্পাদক করে একটি শক্তিশালী মেলা কমিটি গঠন করা হয় । মা বুড়ির ভিটার উপর অর্থাৎ পুজার স্থানের একটি বহুতল ভবন নির্মান করা বিশেষ প্রয়োজন । এ সমস্যা সমাধানসহ ও উন্নয়ন কল্পে বরাবরই মেলা কমিটি স্থানীয় বলাকা সংসদের নেতৃবৃন্দ ও আটিগ্রাম ইউনিয়ন বাসী বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুদৃষ্টি কামনা করছেন। এলাকা বাসী দলমত ও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এ মেলায় একবার ঘুরে আনন্দ উপভোগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
